Showing posts with label Yoga-Dhauti. Show all posts
Showing posts with label Yoga-Dhauti. Show all posts

Friday, June 26, 2009

[Yoga] # ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে...|ধৌতি|


---------------------------------------------------------
# ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে...|ধৌতি|
--------------------------------
@ ধৌতি (Dhauti)...৮২
@ ধৌতি: কপালভাতি (Kapalbhati)...৮৩
@ ধৌতি: বাতসার (Batasara)...৮৪
@ ধৌতি: অগ্নিসার (Agnisara)...৮৫
@ ধৌতি: বারিসার (Barisara)...৮৬
@ ধৌতি: নাসাপান (Nasapana)...৮৭
@ ধৌতি: সহজ বস্তি-ক্রিয়া (Sahaja Basti-kriya)...৮৮
@ ধৌতি: ত্রাটক (Trataka)...৮৯

---------------------------------------------------------

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৯। ধৌতি: ত্রাটক।


ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৯। ধৌতি: ত্রাটক।
রণদীপম বসু

# ত্রাটক (Trataka):

বিভিন্ন আসন বা ব্যায়াম অভ্যাসে শরীরের বিভিন্ন উন্নতি সাধন হলেও ত্রাটক অভ্যাসের মাধ্যমে চোখের দৃষ্টি যতোটা বৃদ্ধি করা সম্ভব তা অন্য কোন পদ্ধতির দ্বারা সম্ভব নয়। চোখ হচ্ছে দেহের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের শ্রেষ্ঠ ইন্দ্রিয়। তাই ত্রাটক অভ্যাসের সময় চোখের উপর বা চোখের সূক্ষ্ম স্নায়ুমণ্ডলী এবং মাংসপেশীর উপর যেন কোন রকম চাপ না পড়ে সেদিকে অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত।


পদ্ধতি:
যে কোন ধ্যানাসনে বসে প্রথমে মনটাকে সুস্থির করুন। এবার সামনের পরিষ্কার দেয়ালে একটি কালো বিন্দু কিংবা মোমবাতির আলোর সামনে বসে এক নিবিষ্টে তাকিয়ে থাকুন। কিছু সময় পর চোখ দিয়ে অল্প অল্প জল বেরিয়ে আসতে পারে। এজন্যে চিন্তার কোন কারণ নেই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, আশপাশ থেকে অন্য কোন আলো যাতে বেশি পরিমাণে চোখের উপর এসে না পড়ে। এভাবে নির্দিষ্ট দিকে সামর্থ্য অনুযায়ী ৪/৫ মিনিট তাকিয়ে থাকার অভ্যাস করুন।


কিছুদিন এই প্রক্রিয়ায় অভ্যাসের পর যে কোন ধ্যানাসনে বসে শরীর সুস্থির রেখে এবার শুধুমাত্র চোখের মণি’কে ধীরে ধীরে একবার ডানদিকে, পরে বামদিকে এবং একবার উপর দিকে, পরে নিচের দিকে নিতে থাকুন। তবে একদিক থেকে অপর দিকে যাবার সময় চোখের মণি’কে সামনের দিকে স্বাভাবিক অবস্থায় অল্প কিছুক্ষণ রাখতে হবে। এভাবে প্রতিটি দিকে সামর্থ্য অনুযায়ী ৫/৬ বার চোখের মণি ঘুরানোর অভ্যাস করুন।

আরো কিছুদিন এরকম অভ্যাসের পর এবার চোখের মণি একবার ঘড়ির কাঁটার দিকে কক-ওয়াইজ ঘুরিয়ে এবপর আবার উল্টোদিকে একবার এন্টি কক-ওয়াইজ ঘোরাতে থাকুন। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ৫/৬ বার এই প্রক্রিয়াটি অভ্যাস করুন।


যা-ই করুন, কিছুতেই যেন মাত্রাধিক্য না হয়। পরিমাণে কম সংখ্যকবার করা যেতে পারে, কিন্তু বেশি বার করা মোটেও উচিত হবে না। এভাবে অভ্যাসের পর হাতের তালু দিয়ে চোখের উপর হালকা মালিশ করে নিন।

উপকারিতা:
এই ত্রাটক অভ্যাসে চোখের অনেক রোগ সেরে যায় এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। কোন আবেগীয় কারণ ছাড়াই যাদের চোখ দিয়ে জল পড়ে কিংবা ঘুম থেকে উঠার পর চোখে যন্ত্রণা হয়, তাদের জন্য ত্রাটক অভ্যাস বিশেষ ফলদায়ক।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব: [৮৮][**][৯০]

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৮। ধৌতি: সহজ বস্তি-ক্রিয়া।


ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৮। ধৌতি: সহজ বস্তি-ক্রিয়া।
রণদীপম বসু

# সহজ বস্তিক্রিয়া (Sahaja Basthikriya):

যে ক্রিয়ায় বস্তি অর্থাৎ তলপেট পরিষ্কার হয়, তারই নাম বস্তি-ক্রিয়া। কোষ্ঠবদ্ধতা বহু রোগের মূল উৎস হওয়ায় কোষ্ঠ বা পায়খানা পরিষ্কার রাখার জন্য প্রত্যেকেই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে এই দুঃসহ কোষ্ঠবদ্ধতা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। এই নিয়মগুলোকে বস্তি-ক্রিয়া বলা হয়ে থাকে।

পদ্ধতি:
সকালে ঘুম থেকে উঠে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে একটি পাতি বা কাগজি লেবুর রস এবং পরিমাণমতো লবণ মিশিয়ে পান করুন। এরপর ছ’বার পবন-মুক্তাসন, চারবার বিপরীতকরণী মুদ্রা, তিনবার অর্ধচন্দ্রাসন বা শলভাসন এবং তিনবার পদহস্তাসন করুন।
তবে উচ্চ রক্তচাপ ও অম্লরোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য যথাক্রমে লবণ ও লেবুর রস ব্যবহার না করাই ভালো।

উপকারিতা:
এই বস্তি-ক্রিয়া অভ্যাসে রাখলে অজীর্ণ ও কোষ্ঠবদ্ধতা রোগ কোনদিন হতে পারে না এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
অত্যধিক বয়েসী কিংবা যাদের শরীর অত্যন্ত দুর্বল বা রুগ্ন, অথবা যাদের পক্ষে কোনরকম আসন বা ব্যায়াম করা সম্ভব নয়, তারা সূর্যোদয়ের পূর্বে বিছানা ত্যাগ করে পরিমাণমতো ঠাণ্ডা বা ঈষদুষ্ণ পানি পান করে খোলা জায়গায় নির্মল বাতাসে কিছু সময় পায়চারি করলেই কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়ে যাবে।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব: [৮৭][**][৮৯]

Wednesday, June 24, 2009

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৭। ধৌতি: নাসাপান।


ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৭। ধৌতি: নাসাপান।
রণদীপম বসু


# নাসাপান (Nasapana) বা সহজ নেতিক্রিয়া (Sahaja Netikriya):

জলের সাহায়্যে নাসাপথে যে নেতিক্রিয়া অভ্যাস করা হয়, তাকে নাসাপান বলে। আর এই প্রক্রিয়াটি অতি সহজ বলেই একে সহজ নেতিক্রিয়া বলে।

পদ্ধতি:
একটি বড় চ্যাপ্টা মুখওয়ালা পাত্র জলভর্তি করে এতে নাক ও মুখ ডুবিয়ে দিন। এবার মুখ বন্ধ রেখে দম নিতে নিতে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে পাত্রের জল ভিতরে টানার চেষ্টা করুন। প্রথম প্রথম অভ্যাসকালে নাক দিয়ে জল টানতে একটু কষ্ট হবে। দু’একদিন নাক জ্বালা করবে, হাঁচিও আসতে পারে। তবে নিষ্ঠার সাথে দু’চারদিন অভ্যাসে জলটানা প্রক্রিয়াটি আয়ত্তে আনতে পারলে মুখ দিয়ে জলপানের মতোই নাক দিয়েও নাসাপান সহজ হয়ে যাবে। যদিও এই জল পেটে গেলেও কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই, তবু নাক দিয়ে জল টেনে দেহে রাখা উচিত নয়, মুখ দিয়ে তা বের করে দিতে হবে।
প্রাথমিক অবস্থায় নাসাপান ধৈর্য্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে ২/৩ মাস অভ্যাস করা যেতে পারে। পরে যখন মনে হবে নাসিকায় বা কণ্ঠে কোন দূষিত পদার্থ সঞ্চিত হয়েছে, কেবল তখনই নাসাপান অভ্যাস করা উচিত। তবে নাসাপানের পর কপালভাতি করা আবশ্যক।

উপকারিতা:
নাসাপান অভ্যাসে নাসিকা ও কণ্ঠদেশে সঞ্চিত দূষিত পদার্থ নির্গত হয়ে যাওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস সহজসাধ্য হয়। এতে মাথা ঠাণ্ডা থাকে, কোনভাবেই মাথাধরা রোগ হয় না। সাইনাস বা পুরনো সর্দি সারাতে এই নেতিক্রিয়াটি অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে গণ্য হয়।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব: [৮৬][**][৮৮]

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৬। ধৌতি: বারিসার।


ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৬। ধৌতি: বারিসার।
রণদীপম বসু


# বারিসার (Barisara) বা বমন-ধৌতি (Bamana-Dauti):

পদ্ধতি:
সাধ্যানুযায়ী এক থেকে দুই লিটার ঈষৎ গরম জলে চা চামচের এক থেকে দুই চামচ লবণ মিশ্রিত করে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় আকণ্ঠ পান করুন। কিছুক্ষণ পর মুখ নিচু করে প্রয়োজনে গলায় আঙুল দিয়ে আলজিভে আস্তে আস্তে নাড়া দিয়ে ঐ জল বমি করে বের করে দিন। একবারে সব জল বের না হলে কয়েকবার প্রক্রিয়াটি করুন।

উপকারিতা:
মুখ দিয়ে বহিরাগত জলের সাথে পেটের সঞ্চিত দূষিত পিত্ত, শ্লেষ্মা ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ সহজে বের হয়ে আসায় দেহ নির্মল হয়। ফলে পিত্ত রোগ, অম্ল-রোগ ও সর্দি-কাশির প্রকোপ হ্রাস পায়। অর্থাৎ খাওয়ার আধ-ঘণ্টা বা একঘণ্টা পরে যাদের চোঁয়া ঢেকুর উঠে বা রোজ বিকেলে ঢেকুর উঠতে থাকে এবং ঢেকুর উঠলে মুখ তেতো বা টক টক লাগে তাদের জন্য এই ধৌতি-প্রক্রিয়াটি বিশেষ উপকারী।
প্রথম প্রথম সপ্তাহে দু’তিনদিন এবং ৪/৫ সপ্তাহ পর থেকে সপ্তাহে একদিন করে এই প্রক্রিয়া অভ্যাস করে গেলে কোনদিন অম্ল বা পিত্তদোষ হবে না।

সতর্কতা:
বারিসার অভ্যাসের অব্যবহিত পরেই খাদ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। অন্তত একঘণ্টা পর খাদ্য গ্রহণ করা যেতে পারে। এবং প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত বারিসার অভ্যাস করা নিষেধ।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব: [৮৫][**][৮৭]

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৫। ধৌতি: অগ্নিসার।


ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৫। ধৌতি: অগ্নিসার।
রণদীপম বসু

# অগ্নিসার (Agnisara):

পদ্ধতি:
অগ্নিসার একধরনের নৌলিক ধৌতি। এটা দাঁড়িয়ে বা যে কোন আসনে বসে দু’ভাবেই করা যেতে পারে। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাত দুটো কোমরের দু’পাশে রাখুন। অথবা পদ্মাসন বা যে কোন ধ্যানাসনে বসে হাত দুটো হাঁটুর উপর রাখুন। এবার পেট ও তলপেটকে উড্ডীয়ান অবস্থায় আনুন। অর্থাৎ প্রথমে শ্বাস ত্যাগ করে উদর বায়ুশূন্য করে কুম্ভক করুন বা দম বন্ধ করে থাকুন। এ অবস্থায় পেট ও তলপেটের মাংসপেশীকে শিথিল করে পরক্ষণেই পেট ও তলপেট কুঞ্চিত করে পেশী মেরুদণ্ডের দিকে টানতে থাকুন এবং পুনরায় শিথিল করে আবার কুঞ্চিত করুন ও পরক্ষণেই শিথিল করে দিন। এভাবে এক কুম্ভকে আয়াসহীনভাবে যতবার সম্ভব প্রক্রিয়াটি অভ্যাস করুন। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস গ্রহণ করুন এবং পেট ও তলপেট শিথিল করে দিন। ৮/১০ বার প্রক্রিয়াটি অভ্যাস করুন।


উপকারিতা:
এই ক্রিয়া উদরের যাবতীয় পীড়া নিরাময়ে সাহায্য করে। পাকস্থলী, প্লীহা, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, মূত্রাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, যৌনগ্রন্থি ইত্যাদি সবল ও সক্রিয় থাকে। মেদ কমে পেট ও তলপেটের পেশী দৃঢ় হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা সেরে যায় এবং যৌনমিলনে অক্ষম ব্যক্তিদের সক্ষম হতে সাহায্য করে।

নিষেধ:
যাদের হৃদযন্ত্র দুর্বল তাদের এবং অল্পবয়সী মেযে যাদের ঋতু প্রতিষ্ঠিত হয়নি তাদের জন্য এই ক্রিয়া অভ্যাস করা নিষেধ।


# সহজ অগ্নিসার (Sahaja Agnisara):

পদ্ধতি (ক):
হাত দুটো জানুর উপর রেখে কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ সামান্য একটু সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দাঁড়ান। এবার দম নিতে নিতে পেটের নিম্নভাগ ও নাভিদেশ আকুঞ্চন করতে করতে যতটা সম্ভব মেরুদণ্ড-সংলগ্ন করার চেষ্টা করুন। শ্বাস নেযা শেষ হলে এখন শ্বাস ত্যাগ করতে করতে আকুঞ্চন শিথিল করে দিন। এভাবে ২০/২৫ বার প্রক্রিয়াটি অভ্যাস করুন।


পদ্ধতি (খ):
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ডান হাতের বুড়ো আঙুল ডানদিকের কোমরের খাঁজে এবং বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল একইভাবে বাঁদিকের কোমরে রাখুন। এবার উভয় কোমরে বুড়ো আঙুল দৃঢ়ভাবে রেখে দু’হাতের অন্য সব আঙুল দিয়ে নাভিদেশ চাপ দিয়ে সঙ্কুচিত করে যতটা সম্ভব মেরুদণ্ড-সংলগ্ন করুন। নাভিদেশ মেরুদণ্ডে লাগার সঙ্গে সঙ্গে নাভির উপর আঙুলগুলো আলগা করে নাভিপ্রদেশ চাপমুক্ত করে শিথিল করে দিন। এভাবে ২০/২৫ বার প্রক্রিয়াটি অভ্যাস করুন।

উপকারিতা:
প্রক্রিয়াটি অভ্যাসকালে পেট ও তলপেট রক্তে প্লাবিত হয় বলে তলপেটে জমা সমস্ত রোগজীবাণু নাশ হয়। আমাশয়, কোষ্ঠতারল্য প্রভৃতি রোগ হয না এবং থাকলেও তা নিরাময় হয়ে যায়। যতদিন অগ্নিসার ধৌতি আয়ত্তে না আসে ততদিন এই সহজ অগ্নিসার ক্রিয়া অভ্যাস করা উচিত।

নিষেধ:
যাদের হৃদযন্ত্র দুর্বল তাদের এবং অল্পবয়সী মেযে যাদের ঋতু প্রতিষ্ঠিত হয়নি তাদের জন্য এই ক্রিয়া অভ্যাস করা নিষেধ।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব: [৮৪][**][৮৬]

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৪। ধৌতি: বাতসার।

ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৪। ধৌতি: বাতসার।
রণদীপম বসু

# বাতসার (Batasara):

পদ্ধতি:
পদ্মাসনে সোজা হয়ে বসুন। এবার ঠোঁট দুটো কাকের ঠোঁটের মতো ছুঁচালো করে ধীরে ধীরে দম নিতে নিতে বায়ু পান দ্বারা উদর পূর্ণ করুন। এবং পরক্ষণেই মুখ দিয়ে বায়ু ত্যাগ করুন। এভাবে ধৌতিটি ৮/১০ বার অভ্যাস করুন।

উপকারিতা:
বাতসার অভ্যাস শরীরকে নির্মল করে। যোগশাস্ত্রীদের মতে বাতসার সর্বপ্রকার রোগ দূর করে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। মুখমণ্ডলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব: [৮৩][**][৮৫]

Tuesday, June 23, 2009

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৩। ধৌতি: কপালভাতি।


ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮৩। ধৌতি: কপালভাতি।
রণদীপম বসু

# কপালভাতি (Kapalbhati):
কপালভাতিকে কেউ কেউ প্রাণায়ামও বলে থাকেন।

পদ্ধতি:
পদ্মাসনে চোখ বন্ধ রেখে সোজা হয়ে বসুন। এবার উভয় নাক দিয়ে কর্মকারদের হাপরের মতো দ্রুত শ্বাস নেয়া ছাড়ার মাধ্যমে শ্বাসযন্ত্রকে সশব্দে দ্রুত বায়ুপূর্ণ এবং পরক্ষণেই বায়ুশূন্য করতে থাকুন। এক্ষেত্রে দম নেয়ার চাইতে দম ছাড়া হবে বেশি পরিমাণে এবং খুব জোরের সঙ্গে। দম নেয়া ও ছাড়ার সময় মেরুদণ্ড, বুক ও কাঁধ যতটা সম্ভব স্থির থাকবে এবং তলপেট হাপরের মতোই ভিতরে বাইরে দ্রুত আসা-যাওয়া করবে।
নতুন শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য অনুযায়ী প্রথম প্রথম মিনিটে ১৫/২০ বার দম ছাড়া ও নেয়ার মাত্রা রাখতে পারেন। কিছুদিন অভ্যাসের পর সামর্থ্য বাড়ার সাথে সাথে এই হার মিনিটে ৫০/৬০ বার থেকে ১২০ বার পর্যন্ত অভ্যাস করতে পারেন।

উপকারিতা:
কপালভাতি অভ্যাসে কপালে সর্দি জমতে পারে না এবং কফ্ দোষ বিনষ্ট হয়। এতে সাইনাস হবার সম্ভাবনা থাকে না এবং সাইনাস থাকলে তা দ্রুত সেরে যায়। এছাড়াও হৃদযন্ত্র সবল হয়, পেটের মেদ কমায় এবং কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব: [৮২][**][৮৪]

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮২। ধৌতি।


ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে ।৮২। ধৌতি।
রণদীপম বসু

# ধৌতি (Dhauti):

‘হঠযোগ-প্রদীপিকা’ গ্রন্থের ২/১৪ স্তোত্রে বলা হয়েছে-
ধৌতিবস্তি স্তথা নেতিস্ত্রাটকং নৌলিকং থো।
কপালভাতিশ্চৈতানি ষট্কর্মাণি প্রচক্ষ্যতে।।

অর্থাৎ নাড়ী শোধনের জন্য ধৌতি, বস্তি, নেতি, নৌলিক, ত্রাটক ও কপালভাতি- এই ষট্কর্ম অভ্যাস করা উচিত।
যদিও প্রত্যেক যোগাসন অভ্যাসকারীকেই যে এই ষট্কর্ম করতেই হবে এমন কোন বিধান নেই, তবু যাদের দেহে মেদ ও শ্লেষ্মা অধিকমাত্রায় রয়েছে তাদের জন্য ষট্কর্ম অভ্যাস করা প্রয়োজন বলে যোগশাস্ত্রীরা বলে থাকেন। তবে আসন অভ্যাসকারী তাঁর নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী উপরোক্ত ষট্কর্মের এক বা একাধিক বেছে নিয়ে যথানিয়মে অভ্যাস করলে আশানুরূপ ফল লাভ করতে পারেন।

উপরোক্ত ষট্কর্ম বা ধৌতিক্রিয়া অভ্যাসে বুকে ও পেটে সঞ্চিত দুষিত পদার্থ স্বাভাবিকভাবে নির্গত হয়ে যাওয়ায় বুক ও পেটে সহজে কোন রোগ আশ্রয় করতে পারে না। একান্তই পূর্বে কোন রোগ বাসা বেঁধে থাকলে এই ধৌতিক্রিয়া তা নিরাময় করতে সাহায্য করে। একই সাথে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে থাকে, যা প্রাণায়াম অভ্যাসে বিশেষ প্রয়োজন হয়।

এই ষট্কর্ম বা ধৌতিক্রিয়ার উল্লেখযোগ্যগুলো হলো- কপালভাতি, বাতসার, অগ্নিসার, বারিসার বা বমন ধৌতি, সহজ নেতিক্রিয়া বা নাসাপান, সহজ বস্তিক্রিয়া, ত্রাটক ইত্যাদি।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব: [৮১][**][৮৩]